Article Abstract Index3

অর্থশাস্ত্রে বর্ণিত দূত ব্যবস্থা ও সমকালে তার প্রাসঙ্গিকতা

Author: *Dr. Basudeb Das **Pousali Das

DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010300010

প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থায় দূত ব্যবস্থা ছিল রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কূটনীতির একটি মৌলিক উপাদান। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বার্তা প্রেরণ, সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, যুদ্ধ ও শান্তির ঘোষণা এবং শত্রু রাষ্ট্রের শক্তি নিরীক্ষণে দূতেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অপরিহার্য শর্ত ছিল কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রাচীন ভারতে দূতকে রাজার মুখ বলে বিবেচনা করা হয়— “দূত মুখ হি রাজানঃ।” এছাড়া রাজাকে ‘চারচক্ষু’ বলা হয় কারণ রাজারা দূতের চক্ষু দিয়েই দেখেন। আচার্য কৌটিল্য প্রণীত অর্থশাস্ত্রের ‘দূতপ্রণিধি’ নামক প্রকরণে দূতের বিভাগ, দূতের কার্যাবলি বিস্তৃত আলোচিত হয়েছে। কৌটিল্যের মতে দূত তিনপ্রকার। তা— (ক) নিসৃষ্টার্থ, (খ) পরিমিতার্থ এবং (গ) শাসনহর দূত। এছাড়া মনুসংহিতাদির শাস্ত্রে, মহাভারতের উদ্যোগপর্ব ও শান্তিপর্বে দূতনিয়োগ বিষয়ে সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। আধুনিক কালে যেখানে দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষার প্রধান মাধ্যম, প্রাচীন ভারতে সেই ভূমিকা পালন করতেন দূত। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে দূতের যোগ্যতা, দায়িত্ব ও নৈতিক আচরণের যে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়, তা প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উচ্চ মান ও বাস্তববাদের পরিচয় বহন করে।
Keywords: কৌটিল্য, দূত, অর্থশাস্ত্র, মনুসংহিতা, নিসৃষ্টার্থ, পরিমিতার্থ, শাসনহর।