Article Abstract index4

বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্ত্রীধন সম্পর্কে প্রাচীন ঋষি যাজ্ঞবল্ক্যের বিচারধারা

Author: Aditi Mandal

DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010400022

সমাজের মেরুদণ্ড নারী এবং পুরুষ উভয়কেই নিয়ে। গণতান্ত্রিক বিচারধারায় আমরা দেখেছি পুরুষের সাথে সাথে নারীও স্বাবলম্বী হতে পারে। তাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। উভয়কেই অধিকার সম্পর্কে আমরা প্রাচীনকাল থেকেই অবগত। আর এই ‘অধিকার’ শব্দটির ক্ষেত্রে যদি কিছুটা পিছনে যাওয়া যায় দেখা যাবে প্রাচীন মুনি, ঋষিদের নানা বিচারধারা। তাঁদের মধ্যে মহামতি কৌটিল্য, আচার্য মনু ও যোগীশ্বর যাজ্ঞবল্ক্যের মাহাত্ম্য অনেকখানি। এক্ষেত্রে যাজ্ঞবল্ক্যের বিচারধারায় ফিরে যাওয়া যেতে পারে। যাজ্ঞবল্ক্যই সর্বপ্রথম নারীর অধিকারের কথা বলেছেন। ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য তাঁর রচিত ‘যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা’-য় স্ত্রীর অধিকারের ক্ষেত্রে ‘স্ত্রীধন’ নিয়ে যা বলেছেন তা আজও সমাজের বিচারধারায় অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে সংজ্ঞায়িত স্ত্রীধন (আক্ষরিক অর্থে ‘নারীর সম্পত্তি’) সেই সম্পদ এবং সম্পত্তিকে বোঝায় যার উপর একজন নারীর সম্পূর্ণ মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ থাকে। ধর্মশাস্ত্রকার কাত্যায়ন অন্বাধেয় স্ত্রীধনের স্বরূপ নির্ণয় করে বলেছেন— “বিবাহাৎ পরতো যচ্চ লব্ধং ভর্তৃকুলাত্ স্ত্রিয়া। অন্বাধেয়ং তু তদ্ দ্রব্যং লব্ধং পিতৃকুলাত্ তথা॥” (কাত্যায়ন) অর্থাৎ বিবাহের পরে ভর্তৃকুল থেকে এবং পিতৃকুল থেকে স্ত্রীর দ্বারা যা লাভ হয় তাকে বলা হয় অন্বাধেয় স্ত্রীধন। যাজ্ঞবল্ক্যের সংজ্ঞা নারীর সম্পত্তির ধারণাকে প্রসারিত করে, এটিকে পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলির তুলনায় আরও ব্যাপক করে তোলে। ভারতীয় আইনে ‘স্ত্রীধন’ হলো বিবাহিত নারীর নিজস্ব সম্পত্তি, যার উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকে, এবং এতে তার নিজস্ব উপার্জনের সম্পদও অন্তর্ভুক্ত। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারে না। বর্তমান আইনি কাঠামোয় একজন মহিলা তাঁর স্ত্রীধনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন, যা তাঁকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করে।