প্রাচীন সাহিত্যে উপেক্ষিত নারী চরিত্র
Author: Anjana Hembrom
DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010400027
বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের বৈশিষ্ট্য তাঁর অনুভূতি নির্ভর রচনাগুলির মধ্যে বর্তমান। তাঁর অধিকাংশ রচনাই বিষয়ী প্রবন্ধ। বাংলা সাহিত্যে \\\'কাত্যে উপেক্ষিতা\\\' একটি সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। কবি প্রাচীন মহাকাব্যের আড়ালে থাকা নারী চরিত্রগুলোর প্রতি কবির উপেক্ষাকে তুলে ধরেছেন। এই চরিত্রগুলো দেবীর প্রতিমূর্তি হলেও মূল ধারার কাহিনীতে প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি, যা নারীর প্রতি সামাজিক অবহেলা ও দেবীর দিকটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রবন্ধের প্রথমে উপেক্ষিতাদের অন্যতম হিসেবে রামায়ণ মহাকাব্যের চরিত্র লক্ষণের ঊর্মিলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঊর্মিলাকে প্রথম দেখা যায় বিদর্ভের বিবাহ সভায়, যাদের মহাকাব্যের মহাকোলাহলে হারিয়ে গিয়েছে। শকুন্তলা নাটকে শকুন্তলার দুই প্রিয় সখী নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছিল শকুন্তলার সুখের জন্য। দুষ্মন্ত-শকুন্তলার প্রেমে এই দুই সঙ্গীর ভূমিকা এতই অধিক ছিল যে পরবর্তীকালে রাজা দুষ্মন্ত যখন রাজসভায় শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি, তার কারণ অনুসূয়া ও প্রিয়ংবদা সেই সভায় অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু এর পরবর্তীকালে শকুন্তলার বিদায়ের পর আর এই দুই সখীকে কাহিনীতে পাওয়া যায় না। সংস্কৃত সাহিত্যে আর একটি উপেক্ষিতা নারী \\\'কাদম্বরী\\\' কাব্যের পত্রলেখা। এই কাব্যের পত্রলেখা আমাদের কাছে অপেক্ষাকৃত স্বল্প পরিচিত। তাই রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝে এর কাহিনী অংশ বর্ণনা করে পত্রলেখার নারীত্বের প্রতি যে অবমাননা করা হয়েছে তার হৃদয়াত্মক বিশ্লেষণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজের কাব্যচেতনা থেকে এই অবহেলিত চরিত্রগুলোর প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং তাদের ম্লানমুখী বলে ব্যাখ্যা করে তাদের অধিকারের কথা বলেছেন।
Keywords: অনাদৃতা, পরিত্যক্তা, ত্রেতাযুগ, নির্বাক, তেজস্বিনী, উপেক্ষিতা।
Keywords: অনাদৃতা, পরিত্যক্তা, ত্রেতাযুগ, নির্বাক, তেজস্বিনী, উপেক্ষিতা।

