বর্তমানের শাসনব্যবস্থায় যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতায় বর্ণিত শাসনব্যবস্থার প্রভাব: একটি সমীক্ষাত্মক আলোচনা
Author: Pallabi Sarkar
DOI: DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010400048
প্রাচীনকালে স্মৃতিশাস্ত্র ও ধর্মশাস্ত্রের ছত্রছায়ায় পরিপুষ্ট ছিল রাজতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানকালে রাজতন্ত্রের অভাবের ফলে বর্ণাশ্রম প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছে। তথাপি ভারতীয় দণ্ডবিধির উৎসরূপে আজও মনুসংহিতা ও যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতায় যে সমস্ত বিধান দেওয়া আছে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বীকৃত। বর্তমানে আমাদের দেশে রাজার আসনে অভিষিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার সদস্যগণ। রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে সংবিধান। যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা হিন্দু ধর্মের আইন, নীতিশাস্ত্র এবং সমাজব্যবস্থার উপর অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি গ্রন্থ। তৃতীয়-পঞ্চম শতাব্দীর এই গ্রন্থের ব্যবহার অধ্যায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, যা পরবর্তী হিন্দু আইন ও সামাজিক রীতিনীতিের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গ্রন্থ মূলত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের বিধান দিয়ে থাকে। যাজ্ঞবল্ক্য বিচার ব্যবস্থাকে অনেক বেশি উন্নত করেছেন। তিনি লিখিত দলিল, বন্ধক এবং অংশীদারির মতো আধুনিক আইন ধারণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি অনেক বেশি যুক্তিবাদী ছিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি প্রথা ও আইনের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা আধুনিক আইনকে আরও সংবেদনশীল ও ন্যায়সংগত করে তোলে। এই স্মৃতিতে মোকদ্দমা দায়ের করা থেকে শুরু করে রায় প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বর্ণনা রয়েছে, যা আধুনিক সিভিল প্রসিডিউরের একটি প্রাচীন রূপ। আইনের ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছিলেন, যার প্রভাব আধুনিক গণতান্ত্রিক বিচার ব্যবস্থায় দেখা যায়। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে, আইন ন্যায়সংগত হওয়া উচিত এবং সাধারণ জ্ঞান বা যুক্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন। যদিও আধুনিক আইন বৈষম্যমূলক রীতিনীতি বর্জন করেছে, কিন্তু উত্তরাধিকার, বিচার বিভাগীয় প্রমাণের ক্ষেত্রে যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির মূল ভিত্তিগুলো আজও প্রাসঙ্গিক।
Keywords: ঋণদান, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, নারীদের অধিকার, অপরাধ
Keywords: ঋণদান, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, নারীদের অধিকার, অপরাধ

