Article Abstract index4

কৌটিল্যের শাসনব্যবস্থা এবং একবিংশ শতাব্দীতে প্রাসঙ্গিকতা

Author: Kartick Kisku

DOI: DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010400053

ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির রাজনীতির ইতিহাসে যাঁর নাম সর্বদা উচ্চারিত হয়, বিষ্ণুপুরাণ অনুযায়ী যিনি নন্দ বংশের উচ্ছেদ ঘটিয়ে মৌর্য সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক চন্দ্রগুপ্তকে মগধের সিংহাসনে আরোহণ করিয়েছিলেন, তিনি হলেন মহামতি, কূটজ্ঞ, বিষ্ণুগুপ্ত বা চাণক্য বা কৌটিল্য। রাষ্ট্রের মঙ্গলময় উদ্দেশ্যে এবং রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অমর সৃষ্টি একমাত্র গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র। ৩৭৫ খ্রিস্টপূর্বে কৌটিল্যের জন্ম। তিনি মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসক চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে শাসন ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। অর্থশাস্ত্রে শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনি সপ্তাঙ্গ তত্ত্বের উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে কৌটিল্যের মতবাদ একবিংশ শতাব্দীতেও সমানভাবে গ্রহণীয়। একবিংশ শতাব্দীতে কৌটিল্যের শাসন ব্যবস্থার স্বরূপ অনুযায়ী রাজা বা স্বামীর স্থলে রাষ্ট্রের প্রধান (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি), মন্ত্রীর স্থলে আমাত্য বা মন্ত্রীগণ, জনপদের স্থানে জনগণ, দুর্গের স্থলে সীমানা, কোষের স্থলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দণ্ডের স্থলে সেনাবাহিনী এবং মিত্রের স্থলে বন্ধুরাষ্ট্র যা পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কৌটিল্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে রাজাকে তুলে ধরেছেন। রাজার প্রধান কর্তব্য হল প্রজাপালন, বিচক্ষণতা, তৎপরতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। একটি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় যে উপাদান বর্তমানেও দেখা যায়, তা মহামতি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। কৌটিল্যের চিন্তাভাবনা দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা এতই সুদূরপ্রসারী যে তা আজও প্রাসঙ্গিক—রাষ্ট্রগুলিকে দেখলেই তা বোঝা যায়। আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে বিষয়গুলি প্রত্যক্ষ করা যায়, তার বর্ণনা কৌটিল্য অনেক আগেই দিয়েছেন। রাষ্ট্রের শাসন সম্পর্কে তাঁর সুসংবদ্ধ ব্যাখ্যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Keywords: কৌটিল্য, একবিংশ শতাব্দী, সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব, রাষ্ট্রচিন্তা, প্রাসঙ্গিকতা, জনকল্যাণ