Article Abstract index4

প্রাচীন ও আধুনিক ভারতে ভূমি ব্যবস্থা তুলনা : একটি সমীক্ষা

Author: Sukeshi Pal

DOI: DOI: https://doi.org/10.70798/tgjct/010400056

ভূমি অর্থাৎ জমি, এই জমির সাথে মানুষের স্বত্ব অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত; জমির দ্বারা গঠিত হলো গ্রামীণ কৃষক সমাজ। জমিকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ঋগ্বৈদিক যুগে জমির মালিকানা, ভূ-সম্পত্তির ওপর রাষ্ট্রের অধিকার এবং জমির মালিকানা বিষয়ক মতানৈক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রাক-মৌর্য যুগ অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক নাগাদ জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা বিষয়টি স্পষ্টতা লাভ করে। মৌর্য যুগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত মালিকানা—দুই ধরনের জমির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ঔপনিবেশিক ভারতে ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস পূর্ব ভারতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অন্যতম ফলাফল ছিল কৃষির বাণিজ্যিকরণ। ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রিড ও তাঁর সহকারী থমাস মনরো ১৮২২ সালে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে অর্থাৎ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতে প্রচলিত ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটে। একইভাবে গাঙ্গেয় উপত্যকায় মহলওয়ারি বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়। ইংরেজদের তৈরি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা দেশের চিরাচরিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দেয়। স্বাধীন ভারতে সরকার বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আর্থিক উন্নয়নে সচেষ্ট হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মূলত কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সে ক্ষেত্রে বার্ষিক বৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ২.১%, কিন্তু প্রকৃত বৃদ্ধি গিয়ে পৌঁছায় ৩.৬%। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যেগুলি মূলত কৃষিকেন্দ্রিক ছিল না; অর্থাৎ কৃষির ওপর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়। ভারতবর্ষ মূলত কৃষিকেন্দ্রিক দেশ। কিন্তু শিল্প-বাণিজ্য নির্ভরতার দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে গ্রামীণ কৃষি-অর্থনীতি ব্যবস্থা ক্রমশ ভেঙে পড়তে থাকে।
Keywords: ভূমি, মানুষ, ঐতিহাসিক, মালিকানা, পদ্ধতি