Article Abstract index5

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমের ধর্মভাবনা

Author: Tanuja Khatun

পৃথিবীতে মানুষের যখন প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল তখন তার মধ্যে কোন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চেতনার উন্মেষ ঘটেনি। বহু যুগ ধরে বিবর্তিত হতে হতে মানুষ আজ আধুনিক মানুষের পরিণত হয়েছে। তার মধ্যে বিকশিত হয়েছে সামাজিক শিক্ষা, ন্যায় নীতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগ। এই ধর্মীয় ভাবাবেগকে আরো উন্নত পর্যায়ে বিকশিত করেছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার ধর্ম সংক্রান্ত ধারণার সূত্রপাত সংশয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে অপ্রিয় করে তোলে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে প্রথম জীবনে তিনি একজন নিরিশ্বরবাদী ছিলেন। তার ভক্তিবাদী জ্ঞান ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের উপর গভীর অস্তার কারণে প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের অনেক নিয়মাবলী কে তিনি উপেক্ষা করেছেন। তিনি সনাতন ধর্মের অন্ধ আচার-আচরণ ও অনুষ্ঠান এবং কুসংস্কার কে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে তার এই ধর্মীয় ভাবাবেগ বর্তমান সমাজের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে ও সমাজের সমস্ত মানুষের কাছে ধর্ম সম্পর্কে এক নতুন চিন্তাভাবনা করার মত পটভূমি তৈরি করেছিলেন। মানুষের সেবা করার এবং সব জীবের প্রতি কল্যাণ সাধনই বঙ্কিমচন্দ্রের মতে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। বর্তমান যুগে যখন বৈশ্বিক সংকট স্বার্থপরতা ও হানাহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন বঙ্কিমের \\\\\\\"অনুশীলন, তত্ত্ব\\\\\\\" বা মানবপ্রেমিক ধর্ম ভাবনা বিশ্ব শান্তি রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। শ্রীমদভগবত গীতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্কিম কর্মযোগের আদর্শ প্রচার করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন নিষ্ক্রিয় বা পলায়নবাদী ধর্ম নয় বরং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনই প্রকৃত ধর্ম। তার এই দেশাত্মবোধক ধর্ম ভাবনা যুবসমাজকে দেশ সেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে। ভূমিকা
Keywords: ধর্মীয় ভাবনা, মানবতাবাদ, জাতীয় সংহতি, সমাজ সংস্কার, রাজনৈতিক চিন্তা, দেশপ্রেম