Article Abstract

মহাশ্বেতা দেবীর ছোটগল্পে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনাত্মক আলোচনা

Author: Sulekha Ghosh

DOI: https://doi.org/10.70798/TGJCT/01020016

আমাদের জন্মের কারণই হল দুঃখ। ভারতীয় দর্শনশাস্ত্র, উপনিষদ এমনকি শ্রীমদ্ভগবত গীতাতেও \\\\\\\'দুঃখ\\\\\\\' শব্দটি নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে। ঠিক তেমনই আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের জীবনও দুঃখময়। মহাশ্বেতা দেবী তাঁর ছোটগল্পগুলির পরতে পরতে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়গণের মানুষগুলির জীবনসংগ্রাম, শোষণ, বঞ্চনা এবং তাদের বেঁচে থাকার অধিকারের লড়াই-এর চিত্র বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন। ছোটগল্পের মূল লক্ষ্য হল অল্পকথায় জীবনের একটি বিশেষ বা খণ্ডিত অংশকে আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরা। জনচিত্তের আকাঙ্ক্ষা অনুসারেই সাহিত্যে বিশেষ বিশেষ রচনার জোয়ারভাঁটা। মহাশ্বেতা দেবী বাংলা কথাসাহিত্যে একজন ব্যতিক্রমী লেখিকা। তিনি নিজের লেখনীর মাধ্যমে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের কথা তুলে ধরেছেন। মহাশ্বেতা দেবী বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের চোখ দিয়ে জীবনকে দেখেছেন। আর সেগুলি সমাজের কাছে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম ছিল তাঁর সাহিত্যকলম। তাঁর রচিত ছোটগল্পগুলি পাঠ করলেই তার প্রমাণ মেলে। তাঁর \\\\\\\'বাঁয়েন\\\\\\\', \\\\\\\'বেহুলা\\\\\\\', \\\\\\\'সাঁঝ সকালের মা\\\\\\\', \\\\\\\'দ্রৌপদী\\\\\\\', \\\\\\\'শিকার\\\\\\\' প্রভৃতি ছোটগল্পগুলিই হল তার অন্যতম দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য গল্পগুলির মাধ্যমে তিনি আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের জীবনের কষ্ট, দুঃখ এবং চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন। যা তাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছো মহাশ্বেতা দেবী তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমাজের সম্ভাব্য কাহিনীকে এক পুরাবৃত্তীয় কল্পমাত্রা দেন, যা বাস্তবের মধ্য দিয়ে উদ্ভব হয়ে বাস্তবকে অতিক্রম করে। এই ভাবে তাঁর লেখা হয়ে উঠেছে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক দলিলস্বরূপ।
Keywords: ত্বরান্বিত, ঘটনাস্রোত, প্রান্তিক, নিকৃষ্ট, সংস্কারবিনাসী, অন্তরঙ্গতা, বাস্তববিসারী